shape

সিসিকের সাথে ইইউ প্রতিনিধি দলের বৈঠক

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৩ উপলক্ষে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রনের প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন প্রেরণের পূর্বে ৭ সদস্যের একটি অনুসন্ধানী মিশন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাথে বৈঠক করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই ২০২৩ খ্রি.) সকাল দশটায় সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বদরুল হকের সাথে নগর ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনকালীন সিলেটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি দল পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করবে বলে জানান ইইউ প্রতিনিধিরা। বৈঠকে তারা সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। সিসিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগির আশ্বাস দেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বদরুল হক। এতে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন ২০২৩ এর, ফার্স্ট সেক্রেটারী (পিলিটিক্যাল) সেবাস্টিন রিগার ব্রন, নির্বাচন ও রাজনীতি বিষয়ক এক্সপার্ট দিমিত্রা আয়ানউ, সিকিউরিটি এক্সপার্ট ইয়ান মিলার, লিগ্যাল এক্সপার্ট ক্রিস্টিনা আলভেস, লজিস্ট্রিক এক্সপার্ট ক্রিস্টপার চ্যামেইন, প্রোগ্রাম ম্যানেজার মেরি-হেলিন এন্ডারলিন, তানজা নাদের, সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ ও আইটি কনসালটেন্ট মো. সাদাত হোসেন খান।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে-মির্জা ফখরুল

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দেশে আর কোন নির্বাচন হবে না। সরকারকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে এবং নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (৯ জুলাই ২০২৩ খ্রি.) সিলেট নগরের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত ‌‘তারুণ্যের সমাবেশ’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফকরুল আরো বলেন- আওয়ামী লীগ বলে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। যে সংবিধান আওয়ামী লীগ নিজেরাই কাটছাট করে নিজেদের মতো তৈরী করেছে। সেই সংবিধানে নির্বাচন করতে চায়। অথচ বাংলাদেশের জনগণ আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নির্বাচন হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। বিশেষত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না।  সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আজ দেশ বাঁচানোর ডাক দিয়েছেন। তার আহ্বানে রাজপথে নেমে এসেছে বাংলার তরুণ সমাজ। আজ তরুণরা জেগে উঠেছে। তরুণরা জেগে উঠলে কোন স্বৈরশাসকই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। এই সরকারও টিকে থাকতে পারবে না। 

তারুণ্যের জয়যাত্রায় ভেসে যাবে বিএনপি-জামায়াত: নিখিল

ক্ষমতার লোভে উন্মত্ত বিএনপি- সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত। তারা যেকোনভাবেই ক্ষমতায় যেতে চায়। এর জন্য বিদেশীদের কাছে দেশের ভাবমুর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে- বলেছেন-বাংলাদেশ আওয়ামী যুবগলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।  রোববার (৯ জুলাই ২০২৩ খ্রি.) সিলেটের ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্র ঘোষিত “তারুণ্যের জয়যাত্রা” কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, “তারুণ্যের সমাবেশ” এর নামে যুবসমাজকে জঙ্গিবাদ, অস্ত্রবাজির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইয়াবা মাদকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে যুবলীগ “তারুণ্যের জয়যাত্রা” কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। ‘তারুণ্যের জয়যাত্রা’য় ভেসে যাবে বিএনপি-জামায়াত। সিলেট মহানগর আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তির সভাপতিত্বে এবং সিলেট জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসাবে বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সিলেটের মাটি বরাবরই আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘাঁটি। এখান থেকে দেশ ও সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছি। 

ঐতিহাসিক রেজিস্টারি মাঠে ‘তারুণ্যের জয়যাত্রা’ সমাবেশ 

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটের রেজিস্টারি মাঠে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ‘তারুণ্যের জয়যাত্রা’ সমাবেশে চলছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। রোববার (৯ জুলাই ২০২৩ খ্রি.) বিকেল চারটায় “তারুণ্যের জয়যাত্রা” সমাবেশ শুরু হয়। এই সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব এমপি। তারুণ্যের জয়যাত্রার সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিলেট জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম কামাল, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হাবিবুর রহমান পাপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম জোয়ারদার সৈকত, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল কবির, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ঐতিহাসিক আলিয়া ময়দানে তারুণ্যের সমাবেশ শুরু

সিলেটে বিএনপির সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে “তারুণ্যের সমাবেশ” শুরু হয়েছে। রোববার (৯ জুলাই ২০২৩ খ্রি.) বেলা ৩টায় সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় এই সমাবেশ। সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাবেশে সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল সহকারে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে এসে জড়ো হন। এর আগে দুপুর থেকে সিরেট নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন তারা। বেলা ২টা থেকে মিছিলে মিছিলে সমাবেশস্থলে পৌছায় তারুণ্যের স্রোত। সমাবেশে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।

স্মৃতি চড়ে- মাটি পথের নির্জনে

সন্ধ্যা নামলেই নির্জনতা ঘিরে রাখতো। গ্রামীণ আঁধার কাটতো কুপি বাতির আলোয়। দুই এক বাড়িতে অবশ্য হারিকেন পৌঁছেছে। গাওয়ের হাট বসতো সপ্তাহে তিন দিন। সোম, বুধ ও শুক্রবার। হাটবার ছিলও বড়দের কাছে প্রয়োজন আর ছানাপোনাদের কাছে বিনোদনের। পিয়াজু, মুড়িমুড়কি খেতে খেলাধুলা কমিয়ে সবার গন্তব্য হাটবার মিস হতো না। বয়স তখন সাত কি আট। বার কি ছিলও ঠিক মনে নেই। টিলা পথে হাট করে ফিরছিলাম। সন্ধ্যার আঁধারে আলো হারাচ্ছিল। আগে পিছে গাল গপ্পে বাড়ি ফিরছিলও অনেকে। পথের ধারে বাশ ঝাড়ে ঝিঝিদের কানফাটা শব্দের দখলে ছিল প্রকৃতি। কারো কথা ঠাওর করার মতো ছিলও না। তবে মানুষে মানুষে কথা বলার একটা রব এখনও কানে বাজে। টিলার ঢালে মাটি পথের পাশে বনো সবুজ আলোকিত করছিলও মিটিমিটি জোনাকির ঝাক। সেদিনের জোনাকির আলো আঁধার কাটিয়ে পথ যেন আলোয় চকচক করছিলও। ঠিক যেমন মহাশূন্য আলোকিত করে তারারা। জোনাকির ছোট্ট আলো ঝলক আজও চোখে ভাসে। সেদিন বড় কষ্টে একটি জোনাক ধরে ছিলাম। মিটিমিটি আলো তারা হাতে সেকি আনন্দ। এখনও অনুভবে সুখ পাই। আলো হাতে ফিরতে ফিরতে অনেকটা পথ পার হয়। দু’হাতের মুঠোয় যত্নে বাড়ি ফিরি। খুশিতে গদগদ। মুঠো খুলিনি জোনাক হারানো ভয়ে। কাছে থেকে দেখার স্বাধও নিতে পারছিনা। দশ, বিশ গুনে মুঠো খুলে দেখি কিছুই নেই। কখন যেন সে উড়ে যায়, বুঝিনি। আলো হারানো সেদিনের কষ্টকে বড়রা ছেলেমানুষী বলে তুচ্ছ করেছিলেন। কিন্তু মাঝ বয়সে এসেও নিজের কাছে সেই স্মৃতি অমূল্য। ছোটতার, ছেলেমানুষীর সেদিনে এখনও ফিরতে চাই। কিন্তু সে সুযোগ কই, স্মৃতি ছাড়া। এখন কেবলই অন্য এক ফেরার তাগাদায়। রাতের কালো, রঙের আলোয় চকচক এখন। গ্রামীণ মাটি পথ এখন বিটুমিনে মসৃণ। গতিতে বিশ্ব বাজারের নামি দামি গাড়ি চলে। টিলার ঢালের বাশ ঝাড় নেই। উজাড়, নির্বংশ প্রায়। ঝিঝিরা শব্দ হারিয়ে বোবা হয়ে গেছে। প্রকৃতির সাথে পাল্টেছে গ্রাম সভ্যতা, রীতিনীতি। এখন নির্দিষ্ট দিনে হাট বসে না। পুরো গ্রামই যেন হাট। সবখানে দোকান। সবদিনই হাট বার, বাজার। জোনাকিদের বিচরণ ক্ষেত এখন বিদ্যুৎ খুটির দখলে। তারারা মহাকাশে এখনও আলো দিলেও জোনাকিরা চলে গেছে ভিন দেশে, আঁধার কালো নির্জন কোনো গ্রামে। তোমরা ফিরে আসো। না হয় আমাকেই যেতে হবে, স্মৃতি চড়ে। ৭ জুলাই ২০২৩

Demo Social Activities-3

সিলেটে বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয়কে হত্যা করেছিলও। সিলেটে অধ্যাপক ড. মু. জাফর ইকবাল স্যারকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছিলও। সিলেটে আতিয়া মহলে শতাধিক সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হত্যা চেষ্টা করেছিলও জঙ্গি মুসা সহ তার সহযোগিরা। সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জগৎজ্যোতিকে হত্যা করে ছিলও মৌলবাদি জঙ্গি গোষ্ঠি। সিলেট থেকে স্বপরিবারে আইএসে যোগ দিতে গিয়েছিল নব্য জঙ্গিরা। সিলেট জঙ্গি মাস্টার মাইন্ড শায়েখ আব্দুর রহমান নিরাপদ মনে করে দীর্ঘ দিন আত্ম গোপনে থেকে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলও। সিলেট মসজিদে নামাজ শেষে মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে হামলা করে ভাঙ্গচুর, অগ্নি সংযোগ করে ছিলও মৌলবাদিরা। সিলেট জুম’আর নামাজ শেষে ঝটিকা সভা করতো নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত রাহরির, চৌকুস সেনা অফিসারদের আহবান করতো খেলাফত প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে। সিলেট হেফাজতের তান্ডবের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকআপ। সিলেট থেকে একসময় দলে দলে উসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বে যুদ্ধ করতে আফগান যেতো জিহাদিরা। স্বগৌরবে প্রচার করা হতো আফগানের অভিজ্ঞতা।  সেই অবস্থার কতোটা পরিবর্তন হয়েছে? কেন সিলেট মৌলবাদি জঙ্গি গোষ্ঠির পছন্দের তালিকায়। কেন তারা এখানেই নিরাপদ মনে করে? এ প্রশ্ন সামনে আসে ঘটনার ধারায়। কদিন কথা বার্তা, আলোচনা হয়। আইনশৃংখলাবাহীনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার তথ্য প্রচার করেন। ফলোআপ গোচরে আসে না। বারবারই চাপা পড়ে যায় মূল, অনুসন্ধানে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা দেখা যায় না। বিষয়টি ভাবনার। আমাদের চারপাশ থেকে ওরা বেড়ে ওঠে। সমাজিকভাবে জঙ্গিবাদের জড়িয়ে পড়া রোধে কোন উদ্দ্যোগ আসে না। উল্টো পারিবারিক মদদে লালিত হয় নব্য জঙ্গিরা। আইনশৃংখলাবাহীনির হাতে ধরা পড়ার পর পরিবারের কাছে জানা যায় ‘সে’ তো অনেকদিন থেকে এক একা থাকতে পছন্দ করতো। ঘরে দরজা জানালা বন্ধ করে লেখাপড়া করতো। পাড়া-মহল্লার কারো সাথে মিশতো না। আত্মিয় স্বজনের বাড়িতে যেতো না। এমন অসংখ্যা লক্ষণ তারা দেখেন বলে যখন স্বীকার করেন, তখন তাদের সন্তানটি আর আয়ত্বে নেই। ততো দিনে ‘সে’ পরিনত হয়েছে একজন প্রশিক্ষিত জঙ্গিতে। পরিবার কখনও খেয়াল করেনি তাদের সন্তান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাদের সাথে চলাফেরা করে। একাডেমিক কাজের বাইরে তার বিচরণ কোথায় কোথায় তা নিয়ে কখনওই ভাবেননি। কখনও ‘তার’ ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ফলো করেননি বিপথে যাওয়ার পর স্বীকার করেন ‘সে’ কখনও তার মোবাইল, ল্যাপটপ আন লক রাখতো না। প্রশ্ন হচ্ছে, কেনো পরিবার পরিজন এসব খোঁজ রাখার প্রয়োজন মনে করেনি? অভিবাবক হিসেবে আপনার দায়িত্বে মধ্যে এসব পড়ে না, কেন মনে করেন? আপনার সন্তান জঙ্গি হয়ে উঠলে- আপনার নিজের ক্ষতি, সমাজ ধ্বংসের কারণ শুধু নয়, দুনিয়ার জন্য ‘সে’ ভয়ংকর কিছু। শান্তির পরিবার, সমাজ, দেশ, বিশ্বকে অশান্ত করে তুলতে যথেষ্ট হয়।  ফলে আমাদের চোখ কান খোলা রেখে অভিবাবকত্বকে ঢেলে সাজানোর কোন বিকল্প দেখছিনা। কারণ সর্বোতভাবে একটি সন্তান জঙ্গি হয়ে ওঠার পেছনে অভিবাবক, পারিবার পরিজনের প্রশ্রয় প্রাথমিকভাবে দায়ি। পাড়া প্রতিবেশিরাও দায়ি- তারা একটি সন্তানের অস্বাভাবিক বেড়ে ওঠা দেখেও কখনও কিছু বলে না। কে কিভাবে নিবে তার সন্তানের চলাচল নিয়ে কথা বললে সেই ভয়ে পাড়া প্রতিবেশিরা নিরব থাকেন।  জঙ্গিবাদের মতো ব্যাধি রোধে সামাজিক বন্ধন আরো শক্ত করতে হবে। দমবন্ধ প্রতিবেশিপনায় এমন অপরাধিরা আপনার আমার চোখের সামনেই বেড়ে উঠবে।  আরেকি বিষয় বড় অবহেলায় ঘটছে। সিলেটে এসেই নিরাপদে জঙ্গিরা আস্তানা করতে পারছে। আপনি খুব সহজেই সামান্য লাভের আসায় যে কাউকে বাসা বাড়ি ভাড়া দিয়ে দিচ্ছি! আইনের তোয়াক্কা না করে ভাড়াটিয়ার সাথে চুক্তি করছি না। নিকস্থ থানায় জানাচ্ছিনা নতুন ভাড়াটিয়ার তথ্য। বাসা বাড়ি ভাড়া প্রদানের আগে কাদের ভাড়া দিচ্ছেন সেতথ্য যেমন নিজে জানছেন না, আইনশৃংখলাবাহীনিকেও জানাচ্ছেন না। এতে সাময়িক আপনি লাভের মুখ দেখলেও দীর্ঘ মেয়াদে নিজে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। সমাজকে, দেশকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।  ৯ মে ২০২৩ তারিখে সিলেটে বড় ধরণের নাশকতা পরিকল্পনা করা নব্য জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র দাওয়াতি শাখার প্রধান আব্দুল্লাহ মায়মূন সহ, সালাউদ্দিন রাজ্জাক মোল্লা, মোহাম্মদ আবু জাফর তাহান ও আক্তার কাজী সাইদ আইজল আইনশৃংখলাবাহীর হাতে ধরা পড়ে। এরা সপ্তাহখানেক আগে সিলেট আসে এবং ভুয়া পরিচয়ে বড়শলা এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। গত সোমবার রাতে সেই বাসায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সংগঠনের চার সদস্যকে আটক করে র‍্যাব। আইনশৃংখলাবাহীনির তথ্য, পার্বত্য অঞ্চলে কুকিজ ন্যাশনাল ফ্রন্টের মাধ্যমে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নেয় এই ৪ জঙ্গি। আনসার আল ইসলামের সাথে যোগাযোগ স্থাপন, অর্থ সংস্থান ও সংগঠনের কার্যক্রম বেগবান করছিলও তার। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘কেএনএফ’ এর সহায়তায় সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয় তারা।  এই জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ মোট ৬৮ জন এবং পাহাড়ে অবস্থান, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যক্রমে জঙ্গিদের সহায়তার জন্য ‘কেএনএফ’ এর ১৭ জন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু ১৬ কোটি মানুষের দেশে কতোটা আশাবাদি হওয়ার খবর এটি সেই প্রশ্ন সামনে আসে। প্রশ্ন আসে সিলেটেই কেন প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা আস্তানা করছে বারবার। ধর্মান্ধতা, মৌলবাদি বিষবাস্প ছড়ানোর জন্য কেন সিলেটই তাদের পছন্দ, সেই প্রশ্নের জবাব খোঁজার খানিকটা দেরি হয়ে গেছে। তবে সমাজ সচেতনতাই কেবল হতে পারে এসব উগ্রতার রুখতে। একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সর্বস্থরের মানুষের সচেতনতাই ভরসা। আর কারা তাদের টার্গেট সেই প্রশ্নর উত্তর সবার জানা। ধর্মান্ধতা বিরোধী, মৌলবাদ বিরোধী আর অসাম্প্রদায়িক চেতনা মনস্করাই তাদের মাথা ব্যথা।  আব্দুল আলিম শাহ, সাংবাদিক, সিলেট। 

Demo Social Activities-2

সিলেটে বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয়কে হত্যা করেছিলও। সিলেটে অধ্যাপক ড. মু. জাফর ইকবাল স্যারকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছিলও। সিলেটে আতিয়া মহলে শতাধিক সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হত্যা চেষ্টা করেছিলও জঙ্গি মুসা সহ তার সহযোগিরা। সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জগৎজ্যোতিকে হত্যা করে ছিলও মৌলবাদি জঙ্গি গোষ্ঠি। সিলেট থেকে স্বপরিবারে আইএসে যোগ দিতে গিয়েছিল নব্য জঙ্গিরা। সিলেট জঙ্গি মাস্টার মাইন্ড শায়েখ আব্দুর রহমান নিরাপদ মনে করে দীর্ঘ দিন আত্ম গোপনে থেকে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলও। সিলেট মসজিদে নামাজ শেষে মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে হামলা করে ভাঙ্গচুর, অগ্নি সংযোগ করে ছিলও মৌলবাদিরা। সিলেট জুম’আর নামাজ শেষে ঝটিকা সভা করতো নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত রাহরির, চৌকুস সেনা অফিসারদের আহবান করতো খেলাফত প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে। সিলেট হেফাজতের তান্ডবের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকআপ। সিলেট থেকে একসময় দলে দলে উসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বে যুদ্ধ করতে আফগান যেতো জিহাদিরা। স্বগৌরবে প্রচার করা হতো আফগানের অভিজ্ঞতা।  সেই অবস্থার কতোটা পরিবর্তন হয়েছে? কেন সিলেট মৌলবাদি জঙ্গি গোষ্ঠির পছন্দের তালিকায়। কেন তারা এখানেই নিরাপদ মনে করে? এ প্রশ্ন সামনে আসে ঘটনার ধারায়। কদিন কথা বার্তা, আলোচনা হয়। আইনশৃংখলাবাহীনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার তথ্য প্রচার করেন। ফলোআপ গোচরে আসে না। বারবারই চাপা পড়ে যায় মূল, অনুসন্ধানে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা দেখা যায় না। বিষয়টি ভাবনার। আমাদের চারপাশ থেকে ওরা বেড়ে ওঠে। সমাজিকভাবে জঙ্গিবাদের জড়িয়ে পড়া রোধে কোন উদ্দ্যোগ আসে না। উল্টো পারিবারিক মদদে লালিত হয় নব্য জঙ্গিরা। আইনশৃংখলাবাহীনির হাতে ধরা পড়ার পর পরিবারের কাছে জানা যায় ‘সে’ তো অনেকদিন থেকে এক একা থাকতে পছন্দ করতো। ঘরে দরজা জানালা বন্ধ করে লেখাপড়া করতো। পাড়া-মহল্লার কারো সাথে মিশতো না। আত্মিয় স্বজনের বাড়িতে যেতো না। এমন অসংখ্যা লক্ষণ তারা দেখেন বলে যখন স্বীকার করেন, তখন তাদের সন্তানটি আর আয়ত্বে নেই। ততো দিনে ‘সে’ পরিনত হয়েছে একজন প্রশিক্ষিত জঙ্গিতে। পরিবার কখনও খেয়াল করেনি তাদের সন্তান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাদের সাথে চলাফেরা করে। একাডেমিক কাজের বাইরে তার বিচরণ কোথায় কোথায় তা নিয়ে কখনওই ভাবেননি। কখনও ‘তার’ ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ফলো করেননি বিপথে যাওয়ার পর স্বীকার করেন ‘সে’ কখনও তার মোবাইল, ল্যাপটপ আন লক রাখতো না। প্রশ্ন হচ্ছে, কেনো পরিবার পরিজন এসব খোঁজ রাখার প্রয়োজন মনে করেনি? অভিবাবক হিসেবে আপনার দায়িত্বে মধ্যে এসব পড়ে না, কেন মনে করেন? আপনার সন্তান জঙ্গি হয়ে উঠলে- আপনার নিজের ক্ষতি, সমাজ ধ্বংসের কারণ শুধু নয়, দুনিয়ার জন্য ‘সে’ ভয়ংকর কিছু। শান্তির পরিবার, সমাজ, দেশ, বিশ্বকে অশান্ত করে তুলতে যথেষ্ট হয়।  ফলে আমাদের চোখ কান খোলা রেখে অভিবাবকত্বকে ঢেলে সাজানোর কোন বিকল্প দেখছিনা। কারণ সর্বোতভাবে একটি সন্তান জঙ্গি হয়ে ওঠার পেছনে অভিবাবক, পারিবার পরিজনের প্রশ্রয় প্রাথমিকভাবে দায়ি। পাড়া প্রতিবেশিরাও দায়ি- তারা একটি সন্তানের অস্বাভাবিক বেড়ে ওঠা দেখেও কখনও কিছু বলে না। কে কিভাবে নিবে তার সন্তানের চলাচল নিয়ে কথা বললে সেই ভয়ে পাড়া প্রতিবেশিরা নিরব থাকেন।  জঙ্গিবাদের মতো ব্যাধি রোধে সামাজিক বন্ধন আরো শক্ত করতে হবে। দমবন্ধ প্রতিবেশিপনায় এমন অপরাধিরা আপনার আমার চোখের সামনেই বেড়ে উঠবে।  আরেকি বিষয় বড় অবহেলায় ঘটছে। সিলেটে এসেই নিরাপদে জঙ্গিরা আস্তানা করতে পারছে। আপনি খুব সহজেই সামান্য লাভের আসায় যে কাউকে বাসা বাড়ি ভাড়া দিয়ে দিচ্ছি! আইনের তোয়াক্কা না করে ভাড়াটিয়ার সাথে চুক্তি করছি না। নিকস্থ থানায় জানাচ্ছিনা নতুন ভাড়াটিয়ার তথ্য। বাসা বাড়ি ভাড়া প্রদানের আগে কাদের ভাড়া দিচ্ছেন সেতথ্য যেমন নিজে জানছেন না, আইনশৃংখলাবাহীনিকেও জানাচ্ছেন না। এতে সাময়িক আপনি লাভের মুখ দেখলেও দীর্ঘ মেয়াদে নিজে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। সমাজকে, দেশকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।  ৯ মে ২০২৩ তারিখে সিলেটে বড় ধরণের নাশকতা পরিকল্পনা করা নব্য জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র দাওয়াতি শাখার প্রধান আব্দুল্লাহ মায়মূন সহ, সালাউদ্দিন রাজ্জাক মোল্লা, মোহাম্মদ আবু জাফর তাহান ও আক্তার কাজী সাইদ আইজল আইনশৃংখলাবাহীর হাতে ধরা পড়ে। এরা সপ্তাহখানেক আগে সিলেট আসে এবং ভুয়া পরিচয়ে বড়শলা এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। গত সোমবার রাতে সেই বাসায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সংগঠনের চার সদস্যকে আটক করে র‍্যাব। আইনশৃংখলাবাহীনির তথ্য, পার্বত্য অঞ্চলে কুকিজ ন্যাশনাল ফ্রন্টের মাধ্যমে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নেয় এই ৪ জঙ্গি। আনসার আল ইসলামের সাথে যোগাযোগ স্থাপন, অর্থ সংস্থান ও সংগঠনের কার্যক্রম বেগবান করছিলও তার। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘কেএনএফ’ এর সহায়তায় সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয় তারা।  এই জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ মোট ৬৮ জন এবং পাহাড়ে অবস্থান, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যক্রমে জঙ্গিদের সহায়তার জন্য ‘কেএনএফ’ এর ১৭ জন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু ১৬ কোটি মানুষের দেশে কতোটা আশাবাদি হওয়ার খবর এটি সেই প্রশ্ন সামনে আসে। প্রশ্ন আসে সিলেটেই কেন প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা আস্তানা করছে বারবার। ধর্মান্ধতা, মৌলবাদি বিষবাস্প ছড়ানোর জন্য কেন সিলেটই তাদের পছন্দ, সেই প্রশ্নের জবাব খোঁজার খানিকটা দেরি হয়ে গেছে। তবে সমাজ সচেতনতাই কেবল হতে পারে এসব উগ্রতার রুখতে। একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সর্বস্থরের মানুষের সচেতনতাই ভরসা। আর কারা তাদের টার্গেট সেই প্রশ্নর উত্তর সবার জানা। ধর্মান্ধতা বিরোধী, মৌলবাদ বিরোধী আর অসাম্প্রদায়িক চেতনা মনস্করাই তাদের মাথা ব্যথা।  আব্দুল আলিম শাহ, সাংবাদিক, সিলেট। 

Demo Social Activities-1

সিলেটে বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয়কে হত্যা করেছিলও। সিলেটে অধ্যাপক ড. মু. জাফর ইকবাল স্যারকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছিলও। সিলেটে আতিয়া মহলে শতাধিক সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হত্যা চেষ্টা করেছিলও জঙ্গি মুসা সহ তার সহযোগিরা। সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জগৎজ্যোতিকে হত্যা করে ছিলও মৌলবাদি জঙ্গি গোষ্ঠি। সিলেট থেকে স্বপরিবারে আইএসে যোগ দিতে গিয়েছিল নব্য জঙ্গিরা। সিলেট জঙ্গি মাস্টার মাইন্ড শায়েখ আব্দুর রহমান নিরাপদ মনে করে দীর্ঘ দিন আত্ম গোপনে থেকে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলও। সিলেট মসজিদে নামাজ শেষে মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে হামলা করে ভাঙ্গচুর, অগ্নি সংযোগ করে ছিলও মৌলবাদিরা। সিলেট জুম’আর নামাজ শেষে ঝটিকা সভা করতো নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত রাহরির, চৌকুস সেনা অফিসারদের আহবান করতো খেলাফত প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে। সিলেট হেফাজতের তান্ডবের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকআপ। সিলেট থেকে একসময় দলে দলে উসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বে যুদ্ধ করতে আফগান যেতো জিহাদিরা। স্বগৌরবে প্রচার করা হতো আফগানের অভিজ্ঞতা।  সেই অবস্থার কতোটা পরিবর্তন হয়েছে? কেন সিলেট মৌলবাদি জঙ্গি গোষ্ঠির পছন্দের তালিকায়। কেন তারা এখানেই নিরাপদ মনে করে? এ প্রশ্ন সামনে আসে ঘটনার ধারায়। কদিন কথা বার্তা, আলোচনা হয়। আইনশৃংখলাবাহীনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার তথ্য প্রচার করেন। ফলোআপ গোচরে আসে না। বারবারই চাপা পড়ে যায় মূল, অনুসন্ধানে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা দেখা যায় না। বিষয়টি ভাবনার। আমাদের চারপাশ থেকে ওরা বেড়ে ওঠে। সমাজিকভাবে জঙ্গিবাদের জড়িয়ে পড়া রোধে কোন উদ্দ্যোগ আসে না। উল্টো পারিবারিক মদদে লালিত হয় নব্য জঙ্গিরা। আইনশৃংখলাবাহীনির হাতে ধরা পড়ার পর পরিবারের কাছে জানা যায় ‘সে’ তো অনেকদিন থেকে এক একা থাকতে পছন্দ করতো। ঘরে দরজা জানালা বন্ধ করে লেখাপড়া করতো। পাড়া-মহল্লার কারো সাথে মিশতো না। আত্মিয় স্বজনের বাড়িতে যেতো না। এমন অসংখ্যা লক্ষণ তারা দেখেন বলে যখন স্বীকার করেন, তখন তাদের সন্তানটি আর আয়ত্বে নেই। ততো দিনে ‘সে’ পরিনত হয়েছে একজন প্রশিক্ষিত জঙ্গিতে। পরিবার কখনও খেয়াল করেনি তাদের সন্তান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাদের সাথে চলাফেরা করে। একাডেমিক কাজের বাইরে তার বিচরণ কোথায় কোথায় তা নিয়ে কখনওই ভাবেননি। কখনও ‘তার’ ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ফলো করেননি বিপথে যাওয়ার পর স্বীকার করেন ‘সে’ কখনও তার মোবাইল, ল্যাপটপ আন লক রাখতো না। প্রশ্ন হচ্ছে, কেনো পরিবার পরিজন এসব খোঁজ রাখার প্রয়োজন মনে করেনি? অভিবাবক হিসেবে আপনার দায়িত্বে মধ্যে এসব পড়ে না, কেন মনে করেন? আপনার সন্তান জঙ্গি হয়ে উঠলে- আপনার নিজের ক্ষতি, সমাজ ধ্বংসের কারণ শুধু নয়, দুনিয়ার জন্য ‘সে’ ভয়ংকর কিছু। শান্তির পরিবার, সমাজ, দেশ, বিশ্বকে অশান্ত করে তুলতে যথেষ্ট হয়।  ফলে আমাদের চোখ কান খোলা রেখে অভিবাবকত্বকে ঢেলে সাজানোর কোন বিকল্প দেখছিনা। কারণ সর্বোতভাবে একটি সন্তান জঙ্গি হয়ে ওঠার পেছনে অভিবাবক, পারিবার পরিজনের প্রশ্রয় প্রাথমিকভাবে দায়ি। পাড়া প্রতিবেশিরাও দায়ি- তারা একটি সন্তানের অস্বাভাবিক বেড়ে ওঠা দেখেও কখনও কিছু বলে না। কে কিভাবে নিবে তার সন্তানের চলাচল নিয়ে কথা বললে সেই ভয়ে পাড়া প্রতিবেশিরা নিরব থাকেন।  জঙ্গিবাদের মতো ব্যাধি রোধে সামাজিক বন্ধন আরো শক্ত করতে হবে। দমবন্ধ প্রতিবেশিপনায় এমন অপরাধিরা আপনার আমার চোখের সামনেই বেড়ে উঠবে।  আরেকি বিষয় বড় অবহেলায় ঘটছে। সিলেটে এসেই নিরাপদে জঙ্গিরা আস্তানা করতে পারছে। আপনি খুব সহজেই সামান্য লাভের আসায় যে কাউকে বাসা বাড়ি ভাড়া দিয়ে দিচ্ছি! আইনের তোয়াক্কা না করে ভাড়াটিয়ার সাথে চুক্তি করছি না। নিকস্থ থানায় জানাচ্ছিনা নতুন ভাড়াটিয়ার তথ্য। বাসা বাড়ি ভাড়া প্রদানের আগে কাদের ভাড়া দিচ্ছেন সেতথ্য যেমন নিজে জানছেন না, আইনশৃংখলাবাহীনিকেও জানাচ্ছেন না। এতে সাময়িক আপনি লাভের মুখ দেখলেও দীর্ঘ মেয়াদে নিজে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। সমাজকে, দেশকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।  ৯ মে ২০২৩ তারিখে সিলেটে বড় ধরণের নাশকতা পরিকল্পনা করা নব্য জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র দাওয়াতি শাখার প্রধান আব্দুল্লাহ মায়মূন সহ, সালাউদ্দিন রাজ্জাক মোল্লা, মোহাম্মদ আবু জাফর তাহান ও আক্তার কাজী সাইদ আইজল আইনশৃংখলাবাহীর হাতে ধরা পড়ে। এরা সপ্তাহখানেক আগে সিলেট আসে এবং ভুয়া পরিচয়ে বড়শলা এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। গত সোমবার রাতে সেই বাসায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সংগঠনের চার সদস্যকে আটক করে র‍্যাব। আইনশৃংখলাবাহীনির তথ্য, পার্বত্য অঞ্চলে কুকিজ ন্যাশনাল ফ্রন্টের মাধ্যমে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নেয় এই ৪ জঙ্গি। আনসার আল ইসলামের সাথে যোগাযোগ স্থাপন, অর্থ সংস্থান ও সংগঠনের কার্যক্রম বেগবান করছিলও তার। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘কেএনএফ’ এর সহায়তায় সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয় তারা।  এই জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ মোট ৬৮ জন এবং পাহাড়ে অবস্থান, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যক্রমে জঙ্গিদের সহায়তার জন্য ‘কেএনএফ’ এর ১৭ জন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু ১৬ কোটি মানুষের দেশে কতোটা আশাবাদি হওয়ার খবর এটি সেই প্রশ্ন সামনে আসে। প্রশ্ন আসে সিলেটেই কেন প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা আস্তানা করছে বারবার। ধর্মান্ধতা, মৌলবাদি বিষবাস্প ছড়ানোর জন্য কেন সিলেটই তাদের পছন্দ, সেই প্রশ্নের জবাব খোঁজার খানিকটা দেরি হয়ে গেছে। তবে সমাজ সচেতনতাই কেবল হতে পারে এসব উগ্রতার রুখতে। একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সর্বস্থরের মানুষের সচেতনতাই ভরসা। আর কারা তাদের টার্গেট সেই প্রশ্নর উত্তর সবার জানা। ধর্মান্ধতা বিরোধী, মৌলবাদ বিরোধী আর অসাম্প্রদায়িক চেতনা মনস্করাই তাদের মাথা ব্যথা।  আব্দুল আলিম শাহ, সাংবাদিক, সিলেট। 

Demo News-1

সিলেটে বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয়কে হত্যা করেছিলও। সিলেটে অধ্যাপক ড. মু. জাফর ইকবাল স্যারকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছিলও। সিলেটে আতিয়া মহলে শতাধিক সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হত্যা চেষ্টা করেছিলও জঙ্গি মুসা সহ তার সহযোগিরা। সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জগৎজ্যোতিকে হত্যা করে ছিলও মৌলবাদি জঙ্গি গোষ্ঠি। সিলেট থেকে স্বপরিবারে আইএসে যোগ দিতে গিয়েছিল নব্য জঙ্গিরা। সিলেট জঙ্গি মাস্টার মাইন্ড শায়েখ আব্দুর রহমান নিরাপদ মনে করে দীর্ঘ দিন আত্ম গোপনে থেকে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলও। সিলেট মসজিদে নামাজ শেষে মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে হামলা করে ভাঙ্গচুর, অগ্নি সংযোগ করে ছিলও মৌলবাদিরা। সিলেট জুম’আর নামাজ শেষে ঝটিকা সভা করতো নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত রাহরির, চৌকুস সেনা অফিসারদের আহবান করতো খেলাফত প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে। সিলেট হেফাজতের তান্ডবের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকআপ। সিলেট থেকে একসময় দলে দলে উসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বে যুদ্ধ করতে আফগান যেতো জিহাদিরা। স্বগৌরবে প্রচার করা হতো আফগানের অভিজ্ঞতা।  সেই অবস্থার কতোটা পরিবর্তন হয়েছে? কেন সিলেট মৌলবাদি জঙ্গি গোষ্ঠির পছন্দের তালিকায়। কেন তারা এখানেই নিরাপদ মনে করে? এ প্রশ্ন সামনে আসে ঘটনার ধারায়। কদিন কথা বার্তা, আলোচনা হয়। আইনশৃংখলাবাহীনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার তথ্য প্রচার করেন। ফলোআপ গোচরে আসে না। বারবারই চাপা পড়ে যায় মূল, অনুসন্ধানে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা দেখা যায় না। বিষয়টি ভাবনার। আমাদের চারপাশ থেকে ওরা বেড়ে ওঠে। সমাজিকভাবে জঙ্গিবাদের জড়িয়ে পড়া রোধে কোন উদ্দ্যোগ আসে না। উল্টো পারিবারিক মদদে লালিত হয় নব্য জঙ্গিরা। আইনশৃংখলাবাহীনির হাতে ধরা পড়ার পর পরিবারের কাছে জানা যায় ‘সে’ তো অনেকদিন থেকে এক একা থাকতে পছন্দ করতো। ঘরে দরজা জানালা বন্ধ করে লেখাপড়া করতো। পাড়া-মহল্লার কারো সাথে মিশতো না। আত্মিয় স্বজনের বাড়িতে যেতো না। এমন অসংখ্যা লক্ষণ তারা দেখেন বলে যখন স্বীকার করেন, তখন তাদের সন্তানটি আর আয়ত্বে নেই। ততো দিনে ‘সে’ পরিনত হয়েছে একজন প্রশিক্ষিত জঙ্গিতে। পরিবার কখনও খেয়াল করেনি তাদের সন্তান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাদের সাথে চলাফেরা করে। একাডেমিক কাজের বাইরে তার বিচরণ কোথায় কোথায় তা নিয়ে কখনওই ভাবেননি। কখনও ‘তার’ ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ফলো করেননি বিপথে যাওয়ার পর স্বীকার করেন ‘সে’ কখনও তার মোবাইল, ল্যাপটপ আন লক রাখতো না। প্রশ্ন হচ্ছে, কেনো পরিবার পরিজন এসব খোঁজ রাখার প্রয়োজন মনে করেনি? অভিবাবক হিসেবে আপনার দায়িত্বে মধ্যে এসব পড়ে না, কেন মনে করেন? আপনার সন্তান জঙ্গি হয়ে উঠলে- আপনার নিজের ক্ষতি, সমাজ ধ্বংসের কারণ শুধু নয়, দুনিয়ার জন্য ‘সে’ ভয়ংকর কিছু। শান্তির পরিবার, সমাজ, দেশ, বিশ্বকে অশান্ত করে তুলতে যথেষ্ট হয়।  ফলে আমাদের চোখ কান খোলা রেখে অভিবাবকত্বকে ঢেলে সাজানোর কোন বিকল্প দেখছিনা। কারণ সর্বোতভাবে একটি সন্তান জঙ্গি হয়ে ওঠার পেছনে অভিবাবক, পারিবার পরিজনের প্রশ্রয় প্রাথমিকভাবে দায়ি। পাড়া প্রতিবেশিরাও দায়ি- তারা একটি সন্তানের অস্বাভাবিক বেড়ে ওঠা দেখেও কখনও কিছু বলে না। কে কিভাবে নিবে তার সন্তানের চলাচল নিয়ে কথা বললে সেই ভয়ে পাড়া প্রতিবেশিরা নিরব থাকেন।  জঙ্গিবাদের মতো ব্যাধি রোধে সামাজিক বন্ধন আরো শক্ত করতে হবে। দমবন্ধ প্রতিবেশিপনায় এমন অপরাধিরা আপনার আমার চোখের সামনেই বেড়ে উঠবে।  আরেকি বিষয় বড় অবহেলায় ঘটছে। সিলেটে এসেই নিরাপদে জঙ্গিরা আস্তানা করতে পারছে। আপনি খুব সহজেই সামান্য লাভের আসায় যে কাউকে বাসা বাড়ি ভাড়া দিয়ে দিচ্ছি! আইনের তোয়াক্কা না করে ভাড়াটিয়ার সাথে চুক্তি করছি না। নিকস্থ থানায় জানাচ্ছিনা নতুন ভাড়াটিয়ার তথ্য। বাসা বাড়ি ভাড়া প্রদানের আগে কাদের ভাড়া দিচ্ছেন সেতথ্য যেমন নিজে জানছেন না, আইনশৃংখলাবাহীনিকেও জানাচ্ছেন না। এতে সাময়িক আপনি লাভের মুখ দেখলেও দীর্ঘ মেয়াদে নিজে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। সমাজকে, দেশকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।  ৯ মে ২০২৩ তারিখে সিলেটে বড় ধরণের নাশকতা পরিকল্পনা করা নব্য জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র দাওয়াতি শাখার প্রধান আব্দুল্লাহ মায়মূন সহ, সালাউদ্দিন রাজ্জাক মোল্লা, মোহাম্মদ আবু জাফর তাহান ও আক্তার কাজী সাইদ আইজল আইনশৃংখলাবাহীর হাতে ধরা পড়ে। এরা সপ্তাহখানেক আগে সিলেট আসে এবং ভুয়া পরিচয়ে বড়শলা এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। গত সোমবার রাতে সেই বাসায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সংগঠনের চার সদস্যকে আটক করে র‍্যাব। আইনশৃংখলাবাহীনির তথ্য, পার্বত্য অঞ্চলে কুকিজ ন্যাশনাল ফ্রন্টের মাধ্যমে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নেয় এই ৪ জঙ্গি। আনসার আল ইসলামের সাথে যোগাযোগ স্থাপন, অর্থ সংস্থান ও সংগঠনের কার্যক্রম বেগবান করছিলও তার। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘কেএনএফ’ এর সহায়তায় সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয় তারা।  এই জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ মোট ৬৮ জন এবং পাহাড়ে অবস্থান, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যক্রমে জঙ্গিদের সহায়তার জন্য ‘কেএনএফ’ এর ১৭ জন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু ১৬ কোটি মানুষের দেশে কতোটা আশাবাদি হওয়ার খবর এটি সেই প্রশ্ন সামনে আসে। প্রশ্ন আসে সিলেটেই কেন প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা আস্তানা করছে বারবার। ধর্মান্ধতা, মৌলবাদি বিষবাস্প ছড়ানোর জন্য কেন সিলেটই তাদের পছন্দ, সেই প্রশ্নের জবাব খোঁজার খানিকটা দেরি হয়ে গেছে। তবে সমাজ সচেতনতাই কেবল হতে পারে এসব উগ্রতার রুখতে। একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সর্বস্থরের মানুষের সচেতনতাই ভরসা। আর কারা তাদের টার্গেট সেই প্রশ্নর উত্তর সবার জানা। ধর্মান্ধতা বিরোধী, মৌলবাদ বিরোধী আর অসাম্প্রদায়িক চেতনা মনস্করাই তাদের মাথা ব্যথা।  আব্দুল আলিম শাহ, সাংবাদিক, সিলেট।