shape

আরওয়াহ গুহা: প্রাচীন সমুদ্রের গল্প

২০২৩ সালের জানুয়ারি। পরিবারসহ মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি গিয়েছিলাম। শীতের সকাল। হালকা কুয়াশা ছিল। পাহাড়ের সবুজ আর গুহার রহস্য দেখতে আমরা পৌছালাম আরওয়াহ গুহায়। আমি, আমার স্ত্রী আর দুই সন্তান- সবাই মিলে এটা ছিল এক রোমাঞ্চকর অভিযাত্রা। গুহার ভিতরের ছোট ছোট শঙ্কু আকৃতির ফসিল দেখতে দেখতে এগুচ্ছিলাম। যেন পৃথিবীর ইতিহাসের এককেটা পাতা খুলছিলাম। চেরাপুঞ্জি বাস স্ট্যান্ড থেকে মাত্র ৩.৫ কিলোমিটার দূরে লাউ শিন্না ফরেস্টে আরওয়াহ গুহা। আমরা সকাল সকাল বেরিয়েছিলাম। জানুয়ারির শীতে পথটা একটু পিচ্ছিল ছিল। এন্ট্রি ফি ছিল মাত্র ৫০ টাকা প্রতি জন। গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। গাইডের সাহায্যে ভালোই হয়েছিল। গুহাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০০ মিটার। ভিতরে একটা ছোট গিরিখাত বয়ে গেছে। পানি কম ছিল। তবে বর্ষায় পানি বেশি হয়। পানি কম থাকায় সহজ ছিল হেটে বেড়ানো। আমার পুত্র কন্যা ছাদ থেকে ঝোলে পড়া পাথর (স্ট্যাল্যাকটাইট) আর মেঝে থেকে উঠে আসা চির ধরা পাথর (স্ট্যাল্যাগমাইট) দেখে খুব উত্তেজিত। বাবাইরা বলছিল, “এটা কি জাদুর রাজ্যে, বাবা?” উত্তর না দিয়ে এগিয়ে গেলাম সবাইকে নিয়ে। গুহার ভিতরে আলোক বাতির সংযোগ আছে। তবুও কিছু কিছু জায়গায় টর্চ লাইট লাগে। আদিম যুগের অবসান গুহা দেখছিলাম। ভাবছিলাম পূর্বতনরা জীবন কাটাতেন এসব গুহায়! ভয়ংকর রকমের জীবন ছিল তাদের। যতই এগুচ্ছি, গভীর হচ্ছে পরিবেশ। গুমোট গন্ধ যুক্ত হাওয়া। দেয়ালে নানা আকৃতির ফসিল আর গুহাবাসী কীটপতঙ্গ’র ডাক। সব মিলিয়ে খানিকটা সময় নিজেরই গুহা মানুষ হিসেবে খোঁজে পাচ্ছিলাম। ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম আর লক্ষ্য করলাম, বাচ্চারা প্রশ্ন করা বন্ধ করে দিয়েছে। অপলক তাকিয়ে দেখছে। শামুক, ঝিনুক, চিংড়ি মাছের আকারের ফসিল। একেকটা একেক রকম। আমরা থেমে গেলাম এই ফসিলের সামনে। ছোট ছোট শিং-এর মতো, সর্পিলাকার গঠন। গাইড বুঝতে পেরেছে আমরা কিছু জানতে চাই। নিজ থেকেই বলতে শুরু করলেন- “এগুলো প্রাচীন সমুদ্রেরবাসিদের অবশেষ।” মুহূর্তে মনে হলো, আমরা শুধু গুহা দেখছি না। অতীত পৃথিবীর সাক্ষী হচ্ছি। প্রমাণ দেখছি। আরওয়াহ গুহার সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো এই ফসিলগুলো। এগুলো চুনাপাথরে দেয়ালে আটকানো। এরা মূলত সমুদ্রীয় শামুক, কাঁকড়জাতীয় প্রাণীর ফসিল। প্রাচীন টেথিস সাগরের পূর্বাংশের কিছু মাছের হাড়ও দেখা যায় এখানে। গুহাটির অবস্থান সমুদ্র পৃষ্ট থেকে ৪৫৯৩ ফুট উচ্চতায়। এরা এলো কি করে এখানে? বিজ্ঞান বলছে- ফসিলগুলোর বয়স প্রায় ৫০ থেকে ৫৬ মিলিয়ন বছর। গুহাটি ইওসিন (Eocene) বা ক্রিটেশিয়াস (Cretaceous) যুগে সৃষ্টি হয়। সেই সময় মেঘালয়ের এলাকা টেথিস সাগরের অংশ ছিল। টেথিস (Tethys Sea) একটি প্রাচীন সাগরের নাম। প্রাগৈতিহাসিককালে টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে আজকের মেঘালয় সৃষ্টি হয়। ভারতীয় প্লেট আর ইউরেশিয়ান প্লেট ধাক্কায় পাহাড় হয়েছে। কোটি কোটি বছরপরে বৃষ্টির পানিতে লাইমস্টোন ক্ষয়ে গুহা তৈরি হলে পাথরের গায়ে ফসিলগুলো রয়ে যায়। থেকে যায় সময় চিহ্ন। গাইড গল্প বলছিলেন। আমরা অবাক হয়ে শুনছিলাম। ৪৫৯৩ ফুট উচ্চতায় সমুদ্র ছিল? সেই মুহূর্তে বুঝলাম, এটা শুধু ভ্রমণ নয়। একটা অভিযাত্রা। অভিজ্ঞতা। গুহার ভিতরটায় অনেক ঠান্ডা ছিল। কিন্তু উত্তেজনায় বেশি কিছু টের পাইনি। কিছুই বুঝিনি। আমরা ঘণ্টাখানেক ভিতরে কাটিয়েছি। ফসিল ছুঁয়ে দেখেছি। ছবি তুলেছি। নদীর পানিতে পা ভিজিয়েছি। বাইরে বেরিয়ে লাউ শিন্না ফরেস্টের কাছে একটা ছোট ঝর্ণার ধারে বসেছি। বিশ্রামেও ছিল দূর পাহাড়ের রুপ। দিনটা আমাদের পরিবারের জন্য খুব সুন্দর ছিল। যদি আপনি যান, তাহলে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস বেছে নিন। পানি কম থাকে। গাইড নিন। টর্চ আর আরামদায়ক জুতো নেবেন। আরওয়াহ গুহা শুধু পর্যটন স্থান নয়। এটা পৃথিবীর অতীতের একটা জানালা। সেই ভ্রমণের স্মৃতি আজও আমাকে অনুপ্রাণিত করে।🪨

সাধারণেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি

এই দীর্ঘ পথচলায় কেবল সুখের গল্প ছিলো না। ছিলো ব্যথা বেদনার সংগ্রাম। ছিলো অভ্যস্ত হয়ে ওঠার চেষ্টা। মানিয়ে নেওয়ার যুদ্ধ। শুরুটা খুবই সাধারণ ছিলো। এখন সাধারণেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি। পাশে থাকার দৃঢ় ইচ্ছের বাস্তবতায় সাধারণ হয়েই থাকছি। অবশ্য সাধারণের মঝেও অনেক কিছু বদলে গেছে। রুচি, অভ্যাস বদলেছে। চেহারায় সময় ছবি এঁকেছে। রুচি, প্রয়োজন, প্রয়োগে পরিবর্তন এসেছে। তবে, চুপ থাকার অভ্যাসটা ঠিক আগের মতোই আছে। জানি, কিছু একটা খুজছি আমরা। কি সেটা? যা তাড়া করছি তার নামই হয়তো ❝সুখ❞। হ্যাঁ সুখ। সবাই তার সঙ্গ পেতে চায়। আমরাও চাই। কিন্তু জানি না- সুখ কোথায় থাকে? হয়তো সুখ কারো কাছেই আসে না। তাইতো তাকে তাড়া করছি। তবে, আমরা শোকাহত হতে শিখেছি অন্যের জন্য। আপাতত এটিই বড় অর্জন। এটিই সুখ মনে করি। #১৬মে২০২৫

ছবি; জমে থাকা সময়

মুই ফিরছি সুরমা, নাও পেছনে ফেলে। বয়স্ক চুলের ধূসর রঙ, চোখে দৃষ্টি বাড়ানোর ফ্রেম করা গ্লাস, কিন্তু হৃদয়ে এখনও সে পুরনো রোদ। নদী সুরমা চলছে বয়ে, যেমন ছোটবেলায় বয়ে যেত। শুধু জল-স্রোত থুড়া কমেছে। তার চেয়ে বহুগুণ বদলে গেছি মুই! নদী জল, এসব নাও জানে আমারে- নাম জানে, জানে মোর শৈশব, কৈশোর। মুই তখন ঝাঁপিয়ে পড়তাম জলে, স্রোত মোর কানে কইতো উজানে কথা। এই পাড়, এই ঘাট লুকিয়ে দেখতো নাওয়ের গলুই ধরে পাড়ি দেবার দূরন্ত ধামালি। এ জলের তল জানে কোথায় হারিয়েছিলাম প্রথম কুড়ানো আশ্চর্য নুড়ি। ফিরছি যখন সুরমা বলছে- “তুই আর আসবি কবে?” মুই কই- “জানি না। তবে ফিরবই তোমার কাছে।” মুই, নাও আর সুরমা- কেবলই জমে থাকা সময়, ছবি। © সুরমাপাড়|বাঘা|গোলাপগঞ্জ|সিলেট

Abdul Alim Shah February 16, 2024 No Comments

নগর জংলায় বনবাসী

জংলার সুর! কি মধুর! সুমধুর সুরে ভোর হয়। সন্ধ্যা মাতোয়ারা হয় সেই সুরের মূর্ছনায়। কান ভরে শুনি, কান পাততে হয় না। অচেনা সব শিল্পী। কন্ঠরাও নয়া। কিন্তু সুরগুলো বড় আপন, চেনা জানা। ঘুম ভাংগে তাদের গল্প-গানে। আমি সময় গুনি সন্ধ্যার আসায়। দুপুর গড়িয়ে বিকেল। গানের মহড়া শুরু হয়। বাতাস ফুরায়, উত্তরের হাওয়া দক্ষিণে বয়। উম লাগা হাওয়ায় শীতলতা আসে। কিন্তু গানওয়ালাদের সুর ফুরায় না। তবু্ও অতৃপ্ত রই, জংলার বনবাসে। বনে উড়ু মন প্রশান্তিতে ক্লান্ত হয়ে আসে। নির্জন নিস্তব্ধ রজনী কাটে বাতাসের গায়ে হেলান দিয়ে। বাতাসে গল্প উড়ে, সুর ভাসে। কতো সুর, কতো ভাষার কতো কথা। কখনো একলা, একা গায়। রাত গভীরে দুকলাও গায়। দলে দলে সুর মিলিয়ে কোরাসও গায়। বিরামহীন গেয়ে যায় গায়েনরা। তারা নাগরিক কোলাহল তোয়াক্কা করে না। শ্রোতাদের ভীড় প্রত্যাশা করে না। ক্লান্ত হয় না মোটেও। তারা শিল্পী, শিল্প বিলায়। একলা এক শ্রোতা! আমার জংলায় বাস। পড়শী যারা, তারা পাখি, পশুও। জংলার বনবাসী। আমি গান শুনি, গল্পও। ভালোবাসি গান, আপ্লুত হয় গল্পে। মধুরতম সুরের মায়ায় মাতম করি, নগর জংলায় বনবাসী হয়ে।

Abdul Alim Shah February 14, 2024 No Comments

শোকের জোয়ার, ভাটায় সুখ

একটা সায়র আছে, জল হীন। যেখানে শোকে জোয়ার আসে, ভাটায় সুখ। ভালোবাসি কি জানি? যদি না বলি তবে, হয়তো এখনো বুঝিনি। জীবনের সূচিতে দিন ধরে হয়তো ভালোবাসা হয়নি। শনিবারের ভালো লাগা বুঝতে হয়েছে শুক্রবার। জনের ভালোবাসা কতোজনে ঠেকেছে? ক্ষনে-খানে ভালোবাসা হারিয়েছে। আটকে আছে আলো, জোছনায়। ভালোবাসার দেনা আছে। পাওনাও কম না। সুদ, আসল, লাভের হিসেবে গরমিল আছে। এখনো ভালোবাসা কিসে, বুঝিনি। তার আগেই হয়তো সময়ের হিসেব মিলে যাবে। ভালোবাসার ঋন সুধিবার সুযোগ ফুরিয়ে যাবে। হৃদ উঠান থেকে উড়ান দেবে দম। মিশে যাবে সময়ে, শনি থেকে শুক্রবারে। হয়তো পৌষ কিংবা মাঘে। অথবা বারিষায়। মা ছেড়ে মিলে যাবো মাটিতে। তখনো ভালোবাসা ভিক্ষে পাবো জনের জানে, ক্ষনে-খানে। ভালোবাসা সবার জন্য।, আমার জন্যে

সময়ের কিনারে, পড়ে গেলেই সমাধিস্থ হবো স্মৃতি সহ

ভোর হতো তাদের গল্প শুনে। ভালোবাসার গান শুনে। জানলার পাশে আতা ফলের গাছ। পাঁকা আতার পাশে বসেই মিষ্টি কন্ঠে সুর বাঁধতো তারা। একটি সুখি পারিবার। ঘরের কার্নিশে বসতি ছিলো ক’টি টুনটুন পরিবারের। তারাও জাগতো সুরে লয়ে। সুরে উত্তাল আধারি উঠান। কথনো মধুর, কখনো রাগ বইয়ে যেতো তাদের গান-সুরে। ভাষাভাষি না হওয়ায় সেটি অনুমান করা যেতো না। তবে মনে হতো সংসার জীবনের কষ্ট বেদনার গানও গাইতো তারা। ভালোবাসার মিষ্টি আলাপ তো হতোই। পশ্বিমে হাওর, পূবে বিল। দক্ষিনে নদী, উত্তরে টিলা পাহাড়ের গাওয়ে আমার বসত টিলার ভোর-সকালের সাথি ছিলো তারা। স্বজন বলতে ছিলো- লাল কাঠাল, সাদা কাঠাল, জারুল, দীর্ঘদেহি চাউর আর চাটনী গাছ। বাতাশের গায়ে বাঁশি বাজানো বাঁশ বাগান ছিলো বাড়তি উম্মাদনার। ভোর থেকে রাত, সারাবেলার আবহ সঙ্গিতালয়। মুধুরতম সেইসব ভোর-সকালের গল্পের সাক্ষি এখনো ভোরের রি রি বাতাস।  বসতির মানুষেরা তখনো ঘুমিয়ে। পাখিদের সুরের মুর্ছনায় ঘুম পর্বের সমাপ্তি টানবো সবাই। গল্প-গানের মধুরতায় আমাদের ঘুম ভাঙ্গতো না, কিন্ত হৃদয় জাগতো। কতো গান। কতো গল্প। মক্তবের মুয়াজ্জিন চুঙ্গায় আজানের ধ্বনি ফুকেননি, পাল বাড়ির পূজোর ঘন্টা বাঝেনি তখনো। কিন্তু গান-গল্পের সুরে  জলসায় ঘরে পরিনত টিলা বাড়িটি। মানুষ, গাছ, পাখি আর তাদের গান-গল্পের ভোরটা এমনই ছিলো। মুধুরতম সেইসব ভোর-সকালের স্বাক্ষী এখনো সূর্য্যালোক। ভোরের আধোয়ালোয় পূব দেওয়ারের দীর্ঘ চাটনী গাছের পাতারা কুয়াশার জলে শীতে কাঁপাতো। হালকা সবুজ, নুয়ে পড়া পাতাদের সকাল হতো পূবালি আলোর ছুঁয়ায়। রাত জেগে এগাছ, ওগাছ থেকে ফলাদি খেয়ে বেড়ানো ক্লান্ত পাখিরা তখন ঘরে ফেরায় ব্যস্ত হয়ে পড়তো। দলে দলে, জোড়ায় জোড়ায় তরস্ত ড়ে যাওয়ার শব্দ শোনা যেতো ঘুম ঘর থেকে। তখনো আমরা জাগিনি। মুধুরতম সেইসব ভোর-সকালের গল্প এখনো ফকির বাড়ির মাটিতে জমা আছে। ভুল পড়ছে কেবল স্মৃতিতে। গ্রাম্য সরল মানুষ গুলোর অনেকে এখন নগরে থাকি। নগরে ঘুমাই। জাগি যাতি-যন্ত্রের শব্দের বিকট শব্দে। এখন আমরা সুখের ‘নাগরিক’। বছরে কখনো সখনো হয়তো পাখি দেখি, গান শুনিই না। পাখির গানে ঘুম ভাঙ্গার অভ্যেস সেকেলে হয়েছে সেই কবে। সিসা যুক্ত বাতাসে ভোরের আলো ফুটে এখন। মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনি শুনি বিকট শব্দে, বৈদ্যুতিক মাইকে! আজানের চুঙ্গা এখন যাদু ধরেও নেই, অনুমান। সুখ স্মৃতিরা কেবল দূরের বরফ পাহাড়ে চাপা পড়ছে। আর আমরা হারিয়ে যাচ্ছি সময়ের কিনারে। পড়ে গেলেই সমাধিস্থ হবো, মুধুরতম সেইসব ভোর-সকালের গল্প সহ। ফকির পাড়া, দক্ষিণ বাঘা, বাঘা, গোলাপগঞ্জ, সিলেট

অতীতই পাথেয়

চিত্তে থুড়া? অতীত কুড়া। আলু, কদু, মুলা চাষ করতো। স্থানীয় হাটে বিক্রি করতো। একটা মুরগির ডিম চার টুকরো করে জুলিয়ান কাট আলুর ঝুল রাধতো। সুখেই আহার করতো সবাই। ছেলে পুলুরা বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করতো। ঘর প্রধানেরা উক্কা, তামাক, বিড়ি খাইতো। শীতের রাতে কম্বল ছিলো না, ছেড়া কাপড়ের উমে সকাল গুনতো। সূর্য আলো দিলে গায়ে মেখে একখানা কম্বলের স্বপ্ন দেখতো তারা। মানুষগুলো ভালোই ছিলো, ছিলো সরল। দিন বদলে গেছে। তারা সেসব দিন ভুলে গেছে। এখন টাকা নয়; ডলার নাড়ায়। দম্ব নিয়ে ছড়ি ঘুরায় পাড়ায় পাড়ায়। তবে ছিন্ন হয়ে মূল হারিয়েছে। মাথায় এখনো চার ভাগের একখণ্ড ডিমের মগজ। চিত্তে আরো থুড়া। অতীতটা ধরেই আগামী। যারা ধরে তারাই সুন্দর। তারা চিত্তে বিত্তে সমান হয়। যারা অতীত মুছে ফেলতে চায়; বুঝতে হবে গলদ আছে। যারা ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়, বুঝতে হবে শেকড়ে ভেজাল আছে। এখানে উল্লেখিত পেশা ছোট কিংবা বড় সেটা বিবেচনা অমূলক। যে যেখানেই যে পেশায় স্বাচ্ছন্দ বোধ করে সেটিই তার জন্য সুখকর। কিন্তু? লেখা: জানুয়ারি ১৪, ২০২৩

Abdul Alim Shah December 31, 2023 No Comments

তরী বাইছি…

দিন যাচ্ছে। কর্ম বদলাচ্ছে। শরিরের ঘর বানাচ্ছে পিঞ্জর কাটা রোগ। বাহু বল কমছে, পা ফেলতে চচ্ছে নিকাশ করে। মাপঝোঁক লাগছে খাবারে। শুয়া বসায় হিসেব। হাটা চলায়ও তাই। সীমিত হচ্ছে সামাজিকতা। কমছে আড্ডার সময়।কমছে আলাপের মানুষ। একই শহরে, একই পাড়ায় থাকছি। কিন্তু দেখা হচ্ছে না। যারা দেশ থেকে দূরে আছে তাদের সাথে সময়ের ব্যবধানে যোগাযোগ নিয়মিত হচ্ছে না। সময় কারাগারে আটকে আছি আমি, আমার যতো বান্ধব। এসবের ফিরিস্ত দিনে দিনে আরও দীর্ঘ হবে। হচ্ছেও তাই। যাক ভালো আছি। সবাই ভালো থেকো এই বেশ। জীবনের তরী নিয়ে শেষ ‘বিশ’ -এ বাইছি সায়রে, সাগরে। কখনো টিলা পাহাড়ে। হইয়্যা হু, হইয়্যা। চলুক। নয়া বছরে সবার জন্য শুভকামনা। যে যেখানে আছো/আছেন- ভালো থাকো/থাকবেন। শুভ ইংরেজি নববর্ষ ২০২৪। #happynewyear2024

Abdul Alim Shah December 31, 2023 No Comments

বিজয় মাস; ২০২৩

বিজয়ের মাস শেষ। জয় বাংলা। জয় বাংলাদেশ। অতৃপ্তি- স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার, শান্তি কমিটির নেতা, গণহত্যায় নেতৃত্ব দেয়া রক্তে এখনো আস্থা রাখছি! তাদের ঘিরে আমাদের যতো উৎসব! ৭১ -এ তাদের বাবা, কাকাদের নির্যাতনের স্বীকার মানুষেরা ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন এখনো। তারা এখনো নির্যাতিত ওদের দ্বারা। এখনো কি আমরা খোঁজ নিতে পারি গণহত্যার শিকার পারিবার, মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ নিতে পারি আমরা? খোঁজ নেই? দেশ স্বাধীনে স্বাজন হারানো মানুষের খবর রাখি আমরা? রাখি না। স্বাধীনতা বিরোধীদের আশ্রয়ে (বাধ্য হয়ে) তারা ঢুকরে কাদেন। নির্যাতিত হন। প্রতিবাদও করতে পারেন না। অনেক জেলা, উপজেলা, গ্রাম মহল্লার স্বাধীনতা বিরোধীদের সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে। বিজয় মাস আসে, চলে যায়। ইচ্ছে থাকলেও নিজ এলাকার (গোলাপগঞ্জ, সিলেট) শান্তি কমিটির নেতা, রাজাকার, আল বদর, আল শামসদের জানতে পারিনি। এদের কেউ চেনেন না! তাদের উত্তরসূরিদের কেউ চেনেন না! যাক জানবো নিশ্চয়ই। একটু সময় লাগবে হয়তো। আবার বিজয় মাস ফিরবে। প্রত্যাশা, স্বাধীনতা বিরোধীদের রক্ত নেতৃত্ব থেকে মুক্ত হউক বাংলাদেশ। অন্তন একাত্তরে নেতৃত্ব দেয়া রাজনৈতিক দলটি যেনো শান্তি কমিটি (পাক বাহিনীর ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত), রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও গণহত্যাকারিদের রক্তবাহি (সন্তান, নাতিপুতি) মুক্ত হয়। ❝প্রগতিশীল❞, ❝মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের❞ এমন ট্যাগ বহনকারী দল, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান সমুহ মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি বিরোধিতা করা রাজনৈতিক দলের (জামায়াত) কর্মী মুক্ত হউক। প্রগতিশীলতার আশ্রয়ে ধর্মান্ধরাও চিহ্নিত হউক। জয় বাংলা।

Abdul Alim Shah September 10, 2023 No Comments

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত সবাই কী বন্ধু?

সমাজ কী? ❝যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন মেনে মানুষ সংঘবদ্ধ বসবাস করে। এক বা অধিক গোত্র বা সম্প্রদায় সৃষ্টি করে, সেই ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়াকে সমাজ বলে। এটি সমাজ বিজ্ঞানের একটি মৌলিক ধারণা। সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাসের উদ্দেশ্য ছিল, নিরাপত্তা ও জীবন ধারণ সহজিকরণ করা। মানব সমাজের আদিম রুপে মানুষ বন্য প্রাণী শিকার ও বন্য ফলমুল সংগ্রহের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতো। কাল পরিক্রমায় সেই সমাজ বিবর্তিত হয়ে Post modern বা উত্তর আধুনিক সমাজের রুপ নিয়েছে।❞ এই ধারণায় সম্পৃক্ত সবাই সবার সাথে সমাজবদ্ধ। পরিপূরক। প্রয়োজন। জীবন ধারনের সহযোগি। এর মধ্যে কেউ কেউ একই বর্ণ, গোত্র, সম্প্রদায়ের হতে পারে। আবার কেউ কারো সম বর্ণ, গোত্র বা সম্প্রদায়ের নাও হতে পারে। ধর্ম, জাতপাতের ভিন্নতা থাকতে পারে। অভিন্ন জাত, ধর্ম, বর্ণ হলেও কারো কারো মধ্যে ভিন্ন মতাদর্শের পার্থক্য থাকতে পারে। শারিরিক গঠন গাঠনেও ভিন্নতা, মিল থাকা স্বাভাবিক। এদের সবে মিলেই একটি সমাজ হয়। বসবাস ও জীবনাচরণ সহজ করতে সমাজ নির্মাণ করে। সমাজে পরিচালিত হয়। সর্ব ক্ষেত্রে সহনশীলতা, ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহিষ্ণু হতে হয়। সমাজ কাঠামোয় বাধ্যতামূলক না হলেও সমাজবদ্ধ কেউ বা কারা বন্ধু হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু কখনই সমাজে বিদ্যমান সবাই সবার বন্ধু হতে পারে না, হয়ও না। জীবনাচরণের জন্য বন্ধুতা একমাত্র নিয়ামকও নয় বলেই আমি মনে করি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কী? যে মাধ্যমের সাহায্যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষ একে অন্যের সাথে দ্রুততম সময়ে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে তাই হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এ মাধ্যম মূলত অনলাইন নির্ভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে আমাদের অঞ্চলে Facebook ব্যাপক জনপ্রিয়।❞ মৌলিক ধারণা সমাজ-এর একটি প্রযুক্তি নির্ভর মাধ্যম এটি। এখানেও জীবনাচার সহজীকরণ, নিরাপত্তা ইত্যাদির উপস্থিতি আছে। এ ধারণায় গুরুত্ব দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে ‘যোগাযোগ’। সামাজিক মৌলিক নিয়ামক সমূহের সাথে অপরাপর দ্রুত ও সহজে যোগাযোগের জন্য এটি কার্যকর। এখানে সমাজের মতো ভিন্ন মত পথের মানুষের উপস্থিতি আছে। একেবারে তেলে জলে মাখামাখির মতো! সামাজিক নিয়ামক প্রতিপালনের মধ্যদিয়ে এখানে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে একটি প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ নির্মাণ করছেন মাত্র। কিন্তু আমরা এই সমাজ ধারণার প্রযুক্তি মাধ্যমে যুক্ত হওয়াকে মাধ্যমগুলোর স্রষ্টাদের চাপিয়ে দেয়া নিয়মে বন্ধুত্ব বলেই ধরে নিয়েছি, নিচ্ছি। যা কোনভাবেই সমাজ বিজ্ঞানের বর্ধিত ধারণায় সম্পৃক্ত না। এমতাবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ততা যৌক্তিক কারণেই বন্ধুত্বের মধ্যে পড়ে না বলেই আমি মনে করি। আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত সাড়ে চার হাজার মানুষের সাথে। কিন্তু আমার মতপ্রকাশে ক্রিয়াশীল মানুষ খুবই নগন্য। শতাংশের হিসেবে ১০ থেকে ১২ শতাংশ। বাকিরা কী করেন? গুপ্তচর ভিত্তি? এদের মধ্যে ভিন্ন মতের মানুষ আছেন, জানি। অভিন্ন মতেরও আছেন। যুক্ততার ১৪ বছরের মাথায় এসে নিকাশ করি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আদতে আমার কোন বন্ধু আছেন কী? নাই। ফলে, সমাজ ধারণার মৌলিক নিয়ামক পর্যালোচনার প্রয়োজন বোধ করি। যৌক্তিক কারণেই বন্ধুত্বের মতো বিশাল সম্পর্ক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের “যুক্ততার” মাঝে গুলিয়ে ফেলছি বিশ্বাস করতে চাই। এখানে সত্যিকার অর্থে সমাজের মতোই জীবনাচরণ ইস্যুতে যোগাযোগ হচ্ছে কেবল, বন্ধুত্ব নয়। “সমাজ” ধারণার নিরাপত্তা যতখানি নিশ্চিত হয় “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের” যুক্ততায় বরং ব্যক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে যতোখানি বন্ধুত্ব তার চেয়ে বেশি গুপ্তচর ভিত্তি হচ্ছে বেশি। এখানে বর্ণ, ধর্ম, জাতি, দল, উপ-দলীয় বৈষম্য, গোপনীয় গোত্র চর্চা নিরবে হচ্ছে। এর কতোশত প্রমাণ দেখেছি আমরা। তবুও কি যুক্ততা কে বন্ধুত্ব বলে স্বীকৃতি দিব? দিতে পারি না।